খাস জমি নিজের নামে রেকর্ড করার নিয়ম ২০২৬

খাস জমি নিজের নামে রেকর্ড করতে চাচ্ছেন? বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বৈধ পন্থায় খাস জমির রেকর্ড করার নিয়ম জানতে পারবেন এই পোস্টে।

বাংলাদেশ সরকারের অধীনে সারা দেশে অনেক খাস জমি রয়েছে। এসব খাস জমি রেকর্ড করার মাধ্যমে আপনি ব্যবহার করতে পারবেন এবং বৈধ মালিক হতে পারবেন। এজন্য, কীভাবে রেকর্ড করতে হয় তা জানতে হবে।

তো চলুন, কীভাবে নিজের নামে খাস জমি রেকর্ড করতে হয় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেয়া যাক।

খাস জমি রেকর্ড করার নিয়ম

খাস জমি রেকর্ড করার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করতে হবে। আবেদন অনুমোদন হলে উক্ত আবেদন অনুমোদনের কপি দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট হতে জমিটি নামজারি আবেদন করতে হবে। এজন্য, আবেদন করার সময় কোর্ট ফি ২০ টাকা এবং নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা প্রদান করতে হবে।

অতঃপর, আবেদনটি অনুমোদন হলে ডিসিআর ফি ১১০০ টাকা প্রদান করতে হবে। এভাবে, খাস জমি নিজের নামে রেকর্ড করতে পারবেন। তবে, উক্ত খাস জমিটি আপনাকে ৯৯ বছরের জন্য দেয়া হবে। এরপর চাইলে আবারও জমিটি নিজের কাছে রাখার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

অর্থাৎ, যেসব জমির খতিয়ান নাম্বার ০১, সেসব জমি হচ্ছে খাস জমি। এসব জমির প্রকৃত মালিক বাংলাদেশ সরকার। এসব জমি নিজের নামে ৯৯ বছরের জন্য রেকর্ড করতে পারবেন এবং ব্যবহার করতে পারবেন।

খাস জমি রেকর্ড করার শর্তসমূহ

খাস জমি রেকর্ড করতে চাইলে অবশ্যই কিছু শর্ত মানতে হবে। এগুলো হলো —

  • খাস জমির খতিয়ান নাম্বার হতে হবে ০১ ।
  • আবেদনকারীকে অবশ্যই ভূমিহীন অথবা ০.১০ এর অনধিক জমির মালিক হতে হবে।
  • খাস জমিটি ৯৯ বছরের জন্য লিজ নেয়া যাবে।

এসব শর্ত মেনে বাংলাদেশ সরকারের মালিকানাধীন যেকোনো খাস জমি লিজ নেয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

খাস জমি রেকর্ড করতে কত টাকা লাগে

খাস জমি রেকর্ড করতে নামজারি আবেদন করতে হয়। নামজারি আবেদন করার সময় কোর্ট ফি এবং নোটিশ জারি ফি বাবদ মোট ৭০ টাকা প্রদান করতে হয়। অতঃপর, আবেদনটি অনুমোদন হয়ে গেলে ডিসিআর ফি বাবদ ১১০০ টাকা ফি প্রদান করতে হয়।

অর্থাৎ, সর্বমোট ১১৭০ টাকা প্রদান করে যেকোনো খাস জমি নিজের নামে রেকর্ড করে নিতে পারবেন। তবে, রেকর্ড করার পূর্বে অবশ্যই জেলা প্রশাসকের নিকট হতে অনুমোদন নিতে হবে।

খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার আবেদন ফরম

খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হয় জেলা প্রশাসকের নিকট। আবেদন করার সময় একটি আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন ফরমটি নিচে থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

এখানে ক্লিক করে আবেদন ফরমটি ডাউনলোড করে নিন।

আবেদন ফরমটি ডাউনলোড করার পর প্রিন্ট করে নিতে হবে। অতঃপর, সেটি যথাযথ তথ্য দিয়ে পূরণ করে নিতে হবে। তারপর জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন ফরমটি জমা দিতে হবে। এটি অনুমোদন হলে এই আবেদনের কপি দিয়ে খাস জমি রেকর্ড করার জন্য নামজারি আবেদন করতে হবে।

ই নামজারি আবেদন করার পর আবেদনটি অনুমোদন হয়েছে কিনা জানার জন্য ই নামজারি যাচাই করুন। এছাড়া, জমির মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে কিনা জানতে নামজারি খতিয়ান অনুসন্ধান করুন।

সারকথা

খাস জমি রেকর্ড করার নিয়ম দেখানো হয়েছে এই পোস্টে। যারা ৯৯ বছরের জন্য সরকারি খাস জমি লিজ নিতে চাচ্ছেন বা নিজের নামে রেকর্ড করতে চাচ্ছেন, তারা পোস্টে দেখানো পদ্ধতি অবলম্বন করুন। এছাড়া, খতিয়ান যাচাই করার নিয়ম এবং ভূমি সংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যা সমাধান জানতে ওয়েবসাইটটি ঘুরে দেখুন।

অন্যান্য পোস্টগুলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *