যেসব জমি সরকারের মালিকানাধীন এবং সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে, সেসব জমিকে খাস জমি বা সরকারি খাস জমি বলা হয়। খাস জমি চেনার উপায় জানতে পারবেন এই পোস্টে।
আমাদের দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারের মালিকানাধীন বেশ কিছু জমি রয়েছে। এসব জমির মালিকানা সরকারের। এগুলো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় নেই এবং সরকার ব্যতীত ভিন্ন কারো নিয়ন্ত্রণ থাকেনা। তবে, খাস জমি সরকার কর্তৃক জনস্বার্থে ব্যবহারের জন্য বন্দোবস্ত দেয়া হয়।
যেকোনো জমির খাস কিনা সেটি কিভাবে বুঝতে হয় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই পোস্টে। চলুন, আরও বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
এই পোস্টের বিষয়বস্তু
সরকারি খাস জমি কী
সরকারি খাস জমি সেসব জমিকেই বলা হয় যেগুলো কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন নয় এবং এগুলোর মালিকানা সরাসরি সরকারের হাতে থাকে। এছাড়া, এই জমিগুলো নিয়ন্ত্রণ করে থাকে সরকার। তবে, জনস্বার্থে ব্যবহারের জন্য এই জমিগুলো জনগণের নিকট বন্দোবস্ত দেয়া হয়ে থাকে।
সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী খাস জমি সাধারণত দুই প্রকার। এগুলো হচ্ছে – কৃষি খাস জমি এবং অকৃষি খাস জমি।
কৃষি খাস জমি
কৃষি খাস জমিগুলো ভূমিহীন কৃষকদেরকে বন্দোবস্ত দেয়া হয়। ভূমিহীন কৃষকরা জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করার মাধ্যমে এই জমিগুলোর বন্দোবস্ত নিতে পারেন। তবে, বন্দোবস্ত নেয়ার জন্য আবেদন করার সময় ফি প্রদান করতে হয়।
কৃষি খাস জমিগুলোতে বন্দোবস্ত নেয়ার পর বিভিন্ন কৃষি পণ্য চাষ করার জন্য ব্যবহার করা যাবে। কৃষি খাস জমিগুলো সাধারণত ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত পাওয়া যায়। মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে আবারও জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করার মাধ্যমে বন্দোবস্ত নেয়া যায়।
অকৃষি খাস জমি
অকৃষি খাস জমিগুলো সাধারণত ভূমিহীন মানুষদের দেয়া হয়, যাদের থাকার কোনো জায়গা নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আবাসিক হিসেবে এসব জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়। অর্থাৎ, ভূমিহীন মানুষদের থাকার জায়গার জন্য এসব জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়।
তবে, অনেক ক্ষেত্রে অকৃষি খাস জমিগুলো বিভিন্ন দোকানপাট তৈরি করার জন্য দেয়া হয়ে থাকে। ভূমিহীন মানুষরা চাইলে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করে এই জমিগুলোর বন্দোবস্ত নিতে পারবেন।
সরকারি খাস জমি চেনার উপায়
সরকারি খাস জমি চেনার বেশ কিছু উপায় রয়েছে। এসব উপায় অবলম্বন করে যেকোনো জমি খাস কিনা বা আপনার এলাকায় কোনো খাস জমি আছে কিনা সেটি বের করতে পারবেন। এছাড়াও, যেকোনো ইউনিয়নে বা মৌজায় কতটুকু খাস জমি আছে এবং সেগুলোর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন।
সরকারি খাস জমি চেনার জন্য যেসব পদ্ধতি অবলম্বন করে যেতে পারে সেগুলো নিচে আলোচনা করা হয়েছে।
৮ নম্বর রেজিস্টার তল্লাশি
যে ইউনিয়নের খাস জমি খুঁজতে চাচ্ছেন, সেই ইউনিয়নের ভূমি অফিসে যেতে হবে। অতঃপর, ৮ নম্বর রেজিস্টার তল্লাশি করতে হবে। সেখানে যেসব জমির তথ্য উল্লেখ থাকবে, সেগুলো সব খাস জমি। এই জমিগুলোর মালিকানা সরকারের।
খতিয়ান ও দাগ নম্বর যাচাই
একটি জমি খাস হয়েছে কিনা বা জমিটি খাস কিনা সেটি জানার জন্য জমির খতিয়ান চেক করতে হবে। খতিয়ান যদি “১” হয়, তবে উক্ত জমিটি খাস জমি। কারণ, সকল খাস জমির খতিয়ান নম্বর “১” হয়ে থাকে। এছাড়া, দাগ নম্বরে সরকারি মালিকানাধীন কিংবা খাস জমি লেখা থাকতে পারে।
মালিকানা যাচাই
একটি জমির মালিকানা যাচাই করার পর যদি জমির মালিকের নামের জায়গায় বাংলাদেশ সরকার/Bangladesh Government/Government এমন কিছু শব্দ লেখা থাকে, তাহলে বুঝতে হবে জমিটি খাস জমি এবং এটির মালিক বাংলাদেশ সরকার।
স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ
একটি জমি খাস কিনা তা সাধারণত স্থানীয় মানুষদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও জেনে নেয়া যায়। সাধারণত বড় এবং ফাঁকা জমিগুলো খাস জমি হয়ে থাকে। খাস জমি অধিকাংশ সময়ই ফাঁকা থাকে যদি সেটি বন্দোবস্ত না দেয়া হয়ে থাকে। এছাড়া খাস জমিতে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে।
খাস জমি কী এবং সরকারি খাস জমি চেনার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই পোস্টে। এছাড়া, আপনারা যদি খাস জমি নিজের নামে বন্দোবস্ত নিতে চান, সেক্ষেত্রে কীভাবে বন্দোবস্ত নিতে হবে বিস্তারিত জানতে আমাদের ওয়েবসাইটের খাস জমি নিজের নামে রেকর্ড করার নিয়ম পোস্টটি পড়ুন।
সারকথা
খাস জমি কী এবং সরকারি খাস জমি চেনার উপায় জানতে পারবেন এখানে। এছাড়া, ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধান এবং খতিয়ান যাচাই করার পদ্ধতি জানতে পারবেন এই ওয়েবসাইটে। অন্যান্য তথ্য জানতে ওয়েবসাইটের পোস্টগুলো পড়ুন।




