এস এ দাগ থেকে আর এস দাগ বের করতে চাচ্ছেন? সহজ নিয়মটি দেখানো হয়েছে এখানে।
জমি সংক্রান্ত যেকোনো কাজে দাগ নম্বর ও খতিয়ান সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই তাদের বাপ-দাদার আমলের জমির পুরনো এস এ দাগ নম্বর জানেন, কিন্তু বর্তমান আর এস দাগ নম্বরটি কত তা জানেন না। জমির সঠিক মালিকানা যাচাই, নামজারি বা জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে বর্তমান দাগ নম্বরটি জানা বাধ্যতামূলক। আজকের এই পোস্টে আমরা খুব সহজ ভাষায় জানবো কীভাবে পুরনো এস এ দাগ থেকে নতুন আর এস দাগ নম্বর বের করতে হয়।
এস এ দাগ থেকে আর এস দাগ বের করার সবচেয়ে সঠিক ও সহজ পদ্ধতি হলো আপনার এলাকার স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে (তহসিল অফিস) গিয়ে ‘দাগ সূচি’ বা ‘ইনডেক্স রেজিস্টার’ খাতা চেক করা। এই খাতায় পুরনো এস এ দাগের বিপরীতে নতুন আর এস দাগ কত পড়েছে তার তালিকা থাকে। এছাড়া, এস এ এবং আর এস মৌজা ম্যাপ পাশাপাশি রেখে একজন আমিন বা সার্ভেয়ারের মাধ্যমে মিলিয়ে দেখে অথবা সরকারি ই-পর্চা ওয়েবসাইটে জমির মালিকের নাম দিয়ে সার্চ করেও বর্তমান আর এস দাগ নম্বর জানা সম্ভব।
এই পোস্টের বিষয়বস্তু
এস এ এবং আর এস দাগ বলতে কী বোঝায়?
বিস্তারিত নিয়মে যাওয়ার আগে এই দুটি শব্দ সম্পর্কে একটু ধারণা থাকা ভালো। এস এ বা ‘স্টেট অ্যাকুইজিশন’ জরিপ অনেক আগে করা হয়েছিল। সময়ের সাথে সাথে নদী ভাঙন, জমি কেনাবেচা বা ওয়ারিশদের মধ্যে জমি ভাগ হওয়ার কারণে জমির আয়তন ও নকশায় অনেক পরিবর্তন আসে।
এই পরিবর্তনগুলো সরকারি নথিতে আপডেট করার জন্যই পরবর্তীতে আর এস বা ‘রিভিশনাল সার্ভে’ করা হয়। নতুন এই জরিপে জমির নকশা আপডেট হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই আগের দাগ নম্বরগুলো পাল্টে নতুন দাগ নম্বর তৈরি হয়। তাই জমির বর্তমান আইনি অবস্থা জানতে আর এস দাগ নম্বর জানা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
এস এ দাগ থেকে আর এস দাগ বের করার উপায়
এই কাজটি করার জন্য বেশ কয়েকটি মাধ্যম রয়েছে। আপনি আপনার সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো একটি উপায় কাজে লাগাতে পারেন। নিচে উপায়গুলো সহজভাবে আলোচনা করা হলো:
১. ভূমি অফিসের ‘দাগ সূচি’ খাতা যাচাই করা
এটি হলো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং সহজ পদ্ধতি। প্রতিটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে (যেটিকে আমরা তহসিল অফিস বলি) ‘দাগ সূচি’ নামের একটি বিশেষ রেজিস্টার খাতা সংরক্ষণ করা থাকে। এই খাতায় পুরনো জরিপের দাগের সাথে নতুন জরিপের দাগের একটি সূচি বা ইনডেক্স করা থাকে।
আপনি আপনার এস এ দাগ নম্বরটি নিয়ে সরাসরি আপনার এলাকার ভূমি অফিসে চলে যান। সেখানকার কর্মকর্তাকে আপনার পুরনো দাগ নম্বরটি দিলে তিনি ওই সূচি খাতাটি চেক করে খুব সহজেই আপনার জমির বর্তমান আর এস দাগ নম্বরটি বের করে দিতে পারবেন।
২. মৌজা ম্যাপ বা নকশা মিলিয়ে দেখা
আপনি চাইলে জমির নকশা বা মৌজা ম্যাপ মিলিয়েও এই কাজটি করতে পারেন। এর জন্য আপনার এলাকার পুরনো এস এ এবং নতুন আর এস—এই দুই ধরনের মৌজা ম্যাপই সংগ্রহ করতে হবে।
ম্যাপ দুটিতে আপনার জমির অবস্থান পাশাপাশি মিলিয়ে দেখলে বুঝতে পারবেন পুরনো দাগটি নতুন ম্যাপে কত নম্বর দাগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যেহেতু সাধারণ মানুষের জন্য ম্যাপের স্কেল বোঝা কিছুটা কঠিন, তাই এই পদ্ধতিতে একজন অভিজ্ঞ আমিন বা সার্ভেয়ারের সাহায্য নেওয়া সবচেয়ে ভালো। তারা খুব নিখুঁতভাবে আপনার দাগ নম্বরটি মিলিয়ে দিতে পারবেন।
৩. ই-পর্চা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে চেক করা
বর্তমানে ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে জমির অনেক তথ্য পাওয়া যায়। বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের ই-পর্চা (dlrms.land.gov.bd) ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনি আপনার মৌজার খতিয়ানগুলো দেখতে পারেন।
যদিও এই ওয়েবসাইটে সরাসরি এস এ দাগ লিখে আর এস দাগ বের করার কোনো কনভার্টার নেই, তবে একটি বিকল্প উপায় আছে। আপনার কাছে যদি জমির বর্তমান বা আগের মালিকের নাম জানা থাকে, তবে সেই নাম দিয়ে আপনি আর এস খতিয়ান সার্চ করতে পারেন। সঠিক ব্যক্তির খতিয়ানটি পেয়ে গেলে, সেই খতিয়ানের ভেতরেই জমির বর্তমান আর এস দাগ নম্বরটি স্পষ্টভাবে লেখা দেখতে পাবেন।
শেষ কথা
জমির দাগ বা খতিয়ান বের করার সময় সব সময় সরাসরি ভূমি অফিসে গিয়ে বা সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে কাজ করার চেষ্টা করবেন। এতে আপনি দালালদের প্রতারণা থেকে বাঁচতে পারবেন এবং সঠিক তথ্যটি পাবেন। আশা করি, উপরের পদ্ধতিগুলো আপনার এস এ দাগ থেকে আর এস দাগ নম্বর বের করার কাজটি অনেক সহজ করে দেবে।





